এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার।
দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল।
প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য।
এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি।
তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে।
লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল—
“কি সুন্দর পরিবার!”
“কি ভদ্র ছেলে!”
“কি সম্মানিত মানুষ!”
আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো।
কারণ মানুষ জানে—
যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য।
রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়।
অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত।
স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে বাজারের প্রদর্শনী বানিয়ে ফেলত।
সে ভাবত—অন্যদের ছোট করলে নিজেকে বড় দেখাবে।
কিন্তু মানুষ একসময় তার কথায় নয়, তার চরিত্রে দাগ দেখতে শুরু করল।
কারণ যে নারী নিজের ঘরের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়, তার মুখেও আলো টেকে না।
শেষে দেখা গেল—
প্রজ্ঞা দাঁড়িয়ে আছে সবার ভালোবাসার সিংহাসনের পাশে, মাথায় নীরব মর্যাদার মুকুট।
আর অহংকার দাঁড়িয়ে আছে মানুষের করুণার ভিড়ে, যেখানে সহানুভূতি আছে, কিন্তু সম্মান নেই।
সংসার আসলে আয়নার মতো—
তুমি যাকে সম্মান দাও, সেই সম্মানের আলো একদিন ঘুরে তোমার মুখেই এসে পড়ে।
personal story, picture, video

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন