সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মে, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

#______অসমাপ্ত_চিঠি_(মহাপ্রয়াণ) .

প্রীয় দীপান্বিতা, অবতারণিকায় স্মৃতিচারন, যে দিন দগদগে ক্ষত নিয়ে একটি গধূলি নেমেছিল অভ্রভেদী উৎপল দ্বারে, আমি সেদিন তাবু গেড়েছিলাম প্রাচীন আঁধারের হৃদপিণ্ডে। তুমি মুষ্টিবন্দী করেছিলে কিছু তমিস্রা, উন্মুক্ত কুন্তলে কৃষ্ণ অভ্র মেখে সম্মুখে এলে,দাবি করেছিলে একটি দ্যুতিময় হেম-কাব্য। অথচ নিষাদী বর্ণমালায় লেখা আমার পংক্তিগুলো ছুঁতে পারেনি তোমার কৃশানু নেত্র-যুগল। হয়তো অম্বরচুম্বিত অভিমানে বুদ হয়েছিলে সেদিন, ঈপ্সাগুলো আঁচলে বেঁধে নিঃশব্দে ছিল তোমার আয়াসী প্রস্থান। অথচ কি অদ্ভুত দেখো! আমি পারিনি সেদিন নির্দয়ভাবে ভেঙে দিতে,সহস্র-শতাব্দীকালের আমার আমি'কে, কিংবা পারিনি মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে তোমার সমুন্নত অভিমানী প্রচীর। তোমার প্রস্থানে ফাটল ধরেছিল মহাকালের মস্তিষ্কে, তল্পিতল্পা গুঁটিয়ে নিয়ে সময়গুলো তুরঙ্গারোহণী, দামিনীর ন্যায় চলে গেছে তেঁপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে তমস্র কান্তার দিগন্তে, পেরিয়ে গেছে চব্বিশটি বছর। অথচ পিঞ্জর নিলয়ে পুষে রাখা বৈশ্বানর অর্ণবের মায়া কাটিয়ে উঠতে পারিনি আজো, লিখতে পারিনি তোমার প্রত্যাগমনের ইন্দ্রজালিক হেম-কাব্য। কেবল বুড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টিতে ধরেছি সপ্ত-সিন্ধুর ফেনিল ...

গোলাপ নয় এলোমেলো কথার প্রলাপ নয় তোমাকে দিতে চাই নীল পাখির ডানায় পিছলে পড়া সবুজ রোদ্দুর

গোলাপ নয় এলোমেলো কথার প্রলাপ নয় তোমাকে দিতে চাই নীল পাখির ডানায় পিছলে পড়া সবুজ রোদ্দুর এক চিলতে বিশ্বাসের মতো জমে থাকা স্পর্শের পারদ তোমার প্রজাপতি ডানায় ইচ্ছা করে ঢেলে দিই কাঁটাতারে আটকে থাকা অর্ধেক ফুসফুস আর জ্যোৎস্নায় পুড়ে যাওয়া বিছানা বালিশ গুটিয়ে ধুলো ওড়া প্রান্তরের দিকে চলে গেছে কিশোর অভিমান যৌনগন্ধহীন কোন এক বিকেলে অসম্ভব মন খারাপ নিয়ে দুরে কোথাও বাবলা গাছের হলুদ ফুলের নির্বাক ভালবাসা নিয়ে হারিয়ে গেছে বালিকা মেঘ চলো খুঁজে আনি পড়ে থাক বিষন্ন স্বদেশ জমিজমা ভিটেমাটি দশ আঙুল টিপছাপ বেখেয়ালি নীলনদের কাছে গিয়ে বাতাসে ধুয়ে নিই অশৌচ গন্ধ এই শরীর শ্মশান ফেরৎ এই মন স্পর্শের সাড়েতিন হাত দুরে বসে আর একবার আমরা দুচোখে আঙুল ঢেকে কানামাছি খেলি ভালবাসা

নারী ও নীরা

-'যখন আমি জন্ম নিলাম এক নারী আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলো'- আমার মা . -ছোট বেলাতে আমার খেলার সাথী ও সবসময় খেলার সাথী একনারী'- আমার দিদি -যখন আমি স্কুলে গেলাম তখন আমাকে পড়াশুনা শেখালো এক নারী'- আমার শিক্ষিকা . - যখন আমি নিরাশ ও হতাশ হয়েছি তখন আমার খেয়াল রেখেছে এক নারী'- আমার বান্ধবী . -যখন আমার একজন সহযোগী ও প্রেমের দরকার হবে তখন আমার সাথ দিবে এক নারী'- আমার সহধর্মীনি .-যখন আমি কঠোর হবো তখন আমার মন নরম করবে এক নারী'- আমার কন্যা . -'যখন আমি মারা যাবো আমাকে কোলে নেবে এক নারী'- ধরিত্রী মাতা । . * যদি আপনি পুরুষ হন তাহলে নারীদের সন্মান করুন, আর যদি আপনি নারী হন তাহলে এদের অংশ হিসাবে গর্ব বোধ করুন । নারীশক্তিকে সন্মান করুন আর নারীজাতির কলঙ্ককে নিশ্চিহ্ন করুন ।

খোলা চিঠি -২

২) প্রিয়া, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি? ব্যর্থতার ভারে আমি যখন হতাশ হয়ে যাই তখন তুমি আমার পাশে ছায়ার মতো থাকো। এরকম একজন পাশে থাকলে কোনো জীবন ব্যর্থ হবে না। অনেক তো বকবক করলাম। এবার বলো তোমার কী অবস্থা? স্বামী, সংসার নিয়ে সুখী তো? আচ্ছা তুমি কি একা থাকলে আমাকে খুব মিস করো? তখন তুমি কী করো? আচ্ছা বাসায় যখন একা থাকো, তখন আমাকে কি মনে পড়ে? পড়ে নিশ্চয়ই? তখন কি আমার কথা ভেবে কয়েক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দাও? প্রিয়তমা, আমার জন্য কখনো অশ্রু বিসর্জন দিও না। তোমার চোখের জল আমার জন্য অভিশাপ হয়ে আসবে। আমি চাই তুমি হাসবে। হাসিখুশিতে মেতে উঠবে তোমার জীবন। তোমার জীবনে কোনো হতাশা থাকবে না, দুঃখ থাকবে না। তুমি হবে সবচেয়ে সুখী মানুষ। আচ্ছা, আজকে কি রান্না করেছ?নিশ্চয়ই করলা আর আলুর ভাজি, মাছের তরকারি করেছ? নাকি আম+ডাল আর শাক করেছ? নাকি মুগের ডালে মাছের মাথাগুলো গুড়িয়ে দিয়ে কাঁটায় ভরিয়ে দিয়েছ? ইস! তোমার রান্নার এত বেশি ভক্ত আমি তা বুঝাতে পারব না(শুধু ঝাল আর লবন নিয়ে একটু প্রবলেম ছাড়া এটা কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ধরে নিও)। সত্যি তুমি অনেক ভালো রান্না করতে পারো। রান্নার সময় তুমি এত বেশি মনযোগী থাকো যে আমি...

খোলা চিঠি -১

১) প্রিয়তমা, কেমন আছো? ভালো আছো নিশ্চয়ই? আমি ভালো আছি। ভালো থাকারই কথা। তোমার মতো এত দারুণ একটা মানুষের সাথে কেউ খারাপ থাকতে পারে? আজ তোমাকে আমি লিখতে বসেছি। মুখোমুখি দু'জনের একত্রে বসবাস তবুও মুখে কেনো জানি সব বলেওঠা হয় না।তাই ডিজিটাল এই মাধ্যমে ভাষা ভাষা চিত্র অঙ্কনের জন্য,যেনতেন কিছু না কিংবা কোনো প্রেমপত্রও না। তোমাকে আমি একটি চিঠি লিখতে বসেছি। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতার এ যুগে আমাদের আবেগ অনুভূতিকে মলিন করে দিয়েছে। চিঠি নামক ভালোবাসা ভরা কথাগুলো এখন হারিয়ে গেছে। আর এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের মাধ্যমে মনের কথাগুলো তোমাকে লিখলাম। প্রিয়া, প্রথম যেদিন তোমার সাথে পরিচয় হয়েছিল সেদিনের কথা মনে আছে? একজন অপরিচিতা মেয়ের সাথে আমার যেমন আন ইজি লাগছিল, ঠিক তেমনি তোমারও আন ইজি লাগছিল কথোপকথনে। খুব miss করি তোমার miss you শব্দ গুচ্ছটাকে। তখনো আমরা জানতাম না আমাদের বিয়ে হবে। তোমার কপট মনের সরলতা, সততা দেখে আমি মুগ্ধ হই। এ যুগে এরকম মেয়েও আছে! কেমন যেন একটা ভালোবাসার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম। এরপর দেশে ফিরে তোমাকে দেখতে গেলাম।কতো না বিপদ ও প্রতিকুল পরিবেশের মধ্য দিয়েও ছুটে চলেএসেছিলাম । আহ! তোমাকে সরাস...

প্রাণের শহর খুলনা

আমার ভালোবাসার শহর কাক ডাকা সকালে ঘুম ভাঙে ময়লাওয়ালার কর্কশ ধ্বনীতে। জ্যাম দিয়েই সকালের যাত্রা শুরু। গাড়ির শব্দে প্রিয় চায়ের কাপের শব্দও মিলিয়ে যায়। ভিক্ষা ব্যবসা, ধান্দাবাজি, ফুটপাতের হকারি, আধুনিকতার নামে ছোট পোশাকে গা দেখিয়ে কিছু মেয়ের বেশ্যাগিরি। আর গলির মোড়ে আড্ডারত কিছু বেয়াদবের চোখ দিয়ে সে দেহ ভক্ষণ। এসব আমার নিত্য অভিজ্ঞতা। সিটি বাসে ললনাদের অপ্রত্যাশিত চাপ সহ্য করা যেন রুটিন। খোলা আকাশে সাদা মেঘ দেখি না, কংক্রিটের ফাঁকে যতটুকু আকাশ দেখি- সেটাও কালো ধোয়ার দখলে। এখানকার ভিক্ষুকগুলো সবাই মুসলমান। সবাই আল্লাহর নামে কিংবা আল্লাহর রাস্তায় ভিক্ষা চায়। এই শহরে সূর্য ওঠে ঠিকই, তবে অস্ত যায় না। এই শহরে বর্ষায় হাটু পানি থাকে ঠিকই, তবে এই শহরেই আমি আমার স্বপ্ন ভাসিয়েছি। এখানে ঘুড়ি, পাখি খুব কমই ওড়ে। তবে আমার শহরে প্রতিনিয়ত মানুষ তার স্বপ্ন ওড়াই। কেন জানি এ শহর আমাকে খুব বেশি টানে। এ শহরে মানুষ প্রতিনিয়ত দেহ বিক্রি করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। তারপরও বারংবার আমি এই শহরের প্রেমে পড়ি। এ আমার ভালোবাসায় শহর। খুলনা।।

বর্ণ বা শ্রেণী ভেদাভেদের একাল সেকাল....

বিশ শতকের শুরুতে নিম্নবর্ণের হিন্দু এবং আতরাফ বা নিম্নবর্গের মুসলমানের মধ্যে হৃদ্যতা যতখানি ছিলো, শত্রুতা ছিলোনা তার সিকিভাগও। আবার দেখছি ঢাকার নবাব পরিবারের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ পাচ্ছেন ঢাকা ও আশেপাশের হিন্দু জমিদারগণ। মিলটা লক্ষ্য করার মতো। উচুঁ তলার হিন্দুর সাথে উঁচু তলার মুসলমানের সখ্য। আবার নিম্নবর্গের মুসলমানের সাথে নিম্নবর্গের হিন্দুর সখ্য। ধর্ম এখানে অপ্রাসঙ্গিক। এখানে মিলনের সূত্র শ্রেণী। সাথে হয়তো বর্ণ। উভয়েই নিম্ন বর্ণ বা বর্গের ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নিম্ন শ্রেণীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই হিন্দু ছাত্রদের জন্য নির্মিত হয় জগন্নাথ হল। এই হলে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের থাকা ও খাবার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এই নিম্নবর্ণের হিন্দু ছাত্রদের সাথে সখ্য ছিল না উচ্চ বর্ণের হিন্দুর। এখানে বিভেদের কারণ মূলত বর্ণগত। (বর্ণের সাথে শ্রেণীরও হতে পারে। কারন ভারতে উচ্চ বর্ণই প্রধানত উচ্চ শ্রেণী তৈরী করেছে। তবে নিম্ন বর্ণের কোন হিন্দুর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উচ্চ শ্রেণীতে উত্তরণ ঘটলে বর্ণ হিন্দু তাকে কিভাবে দেখতো সে বিষয়ে আমার এখনো পর্যন্ত কোন পড়াশোনা নেই।) ঢাকা হলের মুসলিম ছাত্...