সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্লেষক ও বিশ্লেষণ!!

হুমায়ুন আজাদের কোন লেখাই আমি সমর্থন করি না - এক টকশোতো বলছিলেন পণ্ডিত এবং ভ্রাম্যমাণ গুগল সলিমুল্লাহ খান। কেন করেন না তাও বলেছেন। হুমায়ুন আজাদের লেখা হচ্ছে provocative. এবং সেসব লেখায় বিদ্যার কোন লেশ নেই। তাঁর লেখা যত উত্তাপ তৈরী করে তত উজ্জ্বলতা তৈরী করেনা (produces more heat than light) । সাথে যোগ করেছেন যে হুমায়ুন আজাদের লেখা দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ সকলের জন্য ক্ষতিকর।তাঁর লেখা কোন রুচিশীল মানুষ পড়তে পারেনা। তবে এজন্য হুমায়ুন আজাদকে কোপানো যাবেনা। এই সলিমুল্লাহর দিকে একটু নজর দেওয়া যাক। তিনি দাবী করেন তিনি পৃথিবীর চারটে মহাদেশে মাস্টারি করেছেন।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শিক্ষক ছিলেন কিছুকাল। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ তে শিক্ষক ছিলেন অল্পকাল। তাকে নাকি সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। কারণ জানিনা। বছর বিশেককাল যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর নানা দেশে পড়েছেন এবং পড়িয়েছেন। পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের The New school থেকে। এটা নিউইয়র্কের একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি যার পূর্বেকার নাম New School for Social Research. আহমদ ছফাকে ভাঙিয়ে চুরিয়ে সবজায়গায় কিছু কথা বলেন। সাথে নেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের নাম। তাঁর দৃষ্টিতে আহমদ ছফা ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন বুদ্ধিজীবী নাই। ছফাই দেশের একমাত্র ভালো সাহিত্যিক , রাষ্ট্রবিজ্ঞানী , সমাজতাত্ত্বিক এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন লেখক। কাজী নজরুল একমাত্র অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনার মানুষ। পাকিস্তানের কবি ও দার্শনিক ইকবাল তার মুসলমানিত্বের আদর্শ। এবং আরেক পাকিস্তানি লেখক সাদাত হোসেন মান্টো পৃথিবীর সেরা লেখক। রবীন্দ্রনাথের বেশিরভাগ কবিতাই বাজে কথায় ভরপুর। কলকাতা থেকে পড়ার মতো কোন বই প্রকাশ হয়না। এবং আহমদ ছফার মতো তিনিও মনে করেন ভারত একদিন ভেঙে খানখান হয়ে যাবে।তিনি সম্প্রতি মত দিয়েছেন যে মাদ্রাসা শিক্ষা থেকেই প্রকৃত বিদ্বানেরা বেরিয়ে আসে। প্রকৃত মনীষা পেতে হলে দেশকে কওমি মাদ্রাসা দিয়ে ভরে ফেলতে হবে।ইউরোপের আজকের যত জ্ঞান বিজ্ঞান সব মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে গ্রীক থেকে ইউরোপে পৌছেছে।উনার বড় আক্ষেপ যে উনার মাদ্রাসায় পড়ার সৌভাগ্য হয়নি। তা মহাশয় আপনি নিজের সন্তানদেরও কি কোন মাদ্রাসায় পড়ানোর সৌভাগ্য হয়নি?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...

সম্পর্ক ভাঙার আগে একবার ভাবুন…

সবাই সুখ খোঁজে, কিন্তু খুব কম মানুষ দায়িত্ব নিতে চায়। একটা সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যায় না—ধীরে ধীরে ভাঙে। অবহেলা, না বলা কথা, আর অন্য কোথাও স্বস্তি খোঁজার অভ্যাস—এইগুলোই একসময় দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়— যে মানুষটা একসময় আপনার সবচেয়ে আপন ছিল, তাকে না বুঝে, না লড়েই ছেড়ে দেওয়া কি সত্যিই সমাধান? ভালোবাসা মানে শুধু ভালো লাগা না, ভালোবাসা মানে খারাপ সময়েও পাশে থাকার সিদ্ধান্ত। নতুন কারো কাছে শান্তি খোঁজার আগে, একবার ভেবে দেখুন—আপনি কি আপনার পুরোনো সম্পর্কটার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন? ভবে দেখুন বিপরিতের মানুষটা আপনার জন্য কি কিছুই করেনি?সে কি আপনার ভালোলাগা সবগুলোর মধ্য একটিও স্পর্শ করে নি?যদি না'ই হয় তাহলে আপনি কেনো এতোদিন তাকে সঙ্গ দিলেন? পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? কারণ সম্পর্ক ভাঙা সহজ, কিন্তু একটা সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা—খুব কঠিন। চলুন, আমরা সাময়িক অনুভূতির চেয়ে স্থায়ী সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিখি। বিশ্বাস ভাঙার আগে, একবার নিজের কাছেই প্রশ্ন করি— আমি কি সত্যিই আমার দায়িত্বটা পালন করেছি যেটা আমি তার কাছথেকে চাইছি?