বাতাসে প্রবাদ আর আকাশের আদিম ধ্রুবতারা,
কিছু'ই কি কখনও আমি জপেছি তব ভালোবাসা ছাড়া?
স্বার্থের পৃথিবীতে হেথা নয় কেহ-
নিঃস্বার্থ বাস্তুহীন স্বপ্ন হারা,
তবু শুধুই তো চাই-
বুঝুক প্রেয়সী কেনো আমি এমন পাগল পারা।
একবার নয় বার বার মেলেধরি সম্মুখে তোমার
ওহে বন্ধু তবু চোখে কি পড়েনা?
পীরানহীন এ দেহখানা আমার!
আজি বিরহে বিরহে শুষ্কতা এসেছে আমার এ জলপ্রপাতে
জলহীন জলকেলিতে যদিও জানি দুঃখ ও কষ্ট তুমি কুড়াবে
তবু মোর শুষ্কতার কারন কভুনাহি তব ভাবনায় রাখিবে।
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন