আমার ভালোবাসার শহর
কাক ডাকা সকালে ঘুম ভাঙে ময়লাওয়ালার কর্কশ ধ্বনীতে।
জ্যাম দিয়েই সকালের যাত্রা শুরু।
গাড়ির শব্দে প্রিয় চায়ের কাপের শব্দও মিলিয়ে যায়।
ভিক্ষা ব্যবসা, ধান্দাবাজি, ফুটপাতের হকারি,
আধুনিকতার নামে ছোট পোশাকে গা দেখিয়ে কিছু মেয়ের বেশ্যাগিরি।
আর গলির মোড়ে আড্ডারত কিছু বেয়াদবের চোখ দিয়ে সে দেহ ভক্ষণ।
এসব আমার নিত্য অভিজ্ঞতা।
সিটি বাসে ললনাদের অপ্রত্যাশিত চাপ সহ্য করা যেন রুটিন।
খোলা আকাশে সাদা মেঘ দেখি না,
কংক্রিটের ফাঁকে যতটুকু আকাশ দেখি-
সেটাও কালো ধোয়ার দখলে।
এখানকার ভিক্ষুকগুলো সবাই মুসলমান।
সবাই আল্লাহর নামে কিংবা আল্লাহর রাস্তায় ভিক্ষা চায়।
এই শহরে সূর্য ওঠে ঠিকই, তবে অস্ত যায় না।
এই শহরে বর্ষায় হাটু পানি থাকে ঠিকই,
তবে এই শহরেই আমি আমার স্বপ্ন ভাসিয়েছি।
এখানে ঘুড়ি, পাখি খুব কমই ওড়ে।
তবে আমার শহরে প্রতিনিয়ত মানুষ তার স্বপ্ন ওড়াই।
কেন জানি এ শহর আমাকে খুব বেশি টানে।
এ শহরে মানুষ প্রতিনিয়ত দেহ বিক্রি করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।
তারপরও বারংবার আমি এই শহরের প্রেমে পড়ি।
এ আমার ভালোবাসায় শহর।
খুলনা।।
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন