গোলাপ নয়
এলোমেলো কথার প্রলাপ নয়
তোমাকে দিতে চাই নীল পাখির ডানায় পিছলে পড়া
সবুজ রোদ্দুর
এক চিলতে বিশ্বাসের মতো জমে থাকা স্পর্শের পারদ
তোমার প্রজাপতি ডানায় ইচ্ছা করে ঢেলে দিই
কাঁটাতারে আটকে থাকা অর্ধেক ফুসফুস আর জ্যোৎস্নায়
পুড়ে যাওয়া বিছানা বালিশ গুটিয়ে ধুলো ওড়া প্রান্তরের দিকে
চলে গেছে কিশোর অভিমান
যৌনগন্ধহীন কোন এক বিকেলে অসম্ভব মন খারাপ নিয়ে
দুরে কোথাও
বাবলা গাছের হলুদ ফুলের নির্বাক ভালবাসা নিয়ে হারিয়ে গেছে
বালিকা মেঘ
চলো খুঁজে আনি
পড়ে থাক বিষন্ন স্বদেশ
জমিজমা ভিটেমাটি
দশ আঙুল টিপছাপ
বেখেয়ালি নীলনদের কাছে গিয়ে বাতাসে ধুয়ে নিই
অশৌচ গন্ধ এই শরীর
শ্মশান ফেরৎ এই মন
স্পর্শের সাড়েতিন হাত দুরে বসে আর একবার আমরা
দুচোখে আঙুল ঢেকে কানামাছি খেলি
ভালবাসা
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন