সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

#______অসমাপ্ত_চিঠি_(মহাপ্রয়াণ) .

প্রীয় দীপান্বিতা, অবতারণিকায় স্মৃতিচারন, যে দিন দগদগে ক্ষত নিয়ে একটি গধূলি নেমেছিল অভ্রভেদী উৎপল দ্বারে, আমি সেদিন তাবু গেড়েছিলাম প্রাচীন আঁধারের হৃদপিণ্ডে। তুমি মুষ্টিবন্দী করেছিলে কিছু তমিস্রা, উন্মুক্ত কুন্তলে কৃষ্ণ অভ্র মেখে সম্মুখে এলে,দাবি করেছিলে একটি দ্যুতিময় হেম-কাব্য। অথচ নিষাদী বর্ণমালায় লেখা আমার পংক্তিগুলো ছুঁতে পারেনি তোমার কৃশানু নেত্র-যুগল। হয়তো অম্বরচুম্বিত অভিমানে বুদ হয়েছিলে সেদিন, ঈপ্সাগুলো আঁচলে বেঁধে নিঃশব্দে ছিল তোমার আয়াসী প্রস্থান। অথচ কি অদ্ভুত দেখো! আমি পারিনি সেদিন নির্দয়ভাবে ভেঙে দিতে,সহস্র-শতাব্দীকালের আমার আমি'কে, কিংবা পারিনি মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে তোমার সমুন্নত অভিমানী প্রচীর। তোমার প্রস্থানে ফাটল ধরেছিল মহাকালের মস্তিষ্কে, তল্পিতল্পা গুঁটিয়ে নিয়ে সময়গুলো তুরঙ্গারোহণী, দামিনীর ন্যায় চলে গেছে তেঁপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে তমস্র কান্তার দিগন্তে, পেরিয়ে গেছে চব্বিশটি বছর। অথচ পিঞ্জর নিলয়ে পুষে রাখা বৈশ্বানর অর্ণবের মায়া কাটিয়ে উঠতে পারিনি আজো, লিখতে পারিনি তোমার প্রত্যাগমনের ইন্দ্রজালিক হেম-কাব্য। কেবল বুড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টিতে ধরেছি সপ্ত-সিন্ধুর ফেনিল ঊর্মি, চশমার মোটা ফ্রেমে বেঁধেছি তোমার ঘোলাটে টেরাকোটা ইন্দু-মুখ। আচ্ছা,জীবনের ক্রান্তিলগ্নে যদি ঐ রক্তজবা অধরে একটি চুম্বনের তীব্র স্পৃহা জাগ্রত হয়, তবে কি ভগ্নাভিলাস সঙ্গী করেই যবনিকা সাঙ্গ হবে..? বাইশটি বছর তো কাটিয়ে দিয়েছি প্রেয়সী নিকোটিনের ওষ্ঠ চুম্বনে, এবার নাহয় নিথর নিষ্কম্প ওষ্ঠে তোমার অম্লীয় চুম্বন এঁকে দিয়ে যেও। কিংবা তোমার সমুন্নত সফেদ বক্ষের সুগভীর খাঁজে লেপ্টে দিও আমার হিম-ফ্যাকাসে মুখ, তোমার শরীরী গন্ধ নিয়ে হোক আমার মহাপ্রস্থান..... হোক মহাকালের পন্থানুসরণ কিংবা ইন্দ্রালয়ের অভিমুখে আমার মহাপ্রয়াণ......। যমনিকায় বর্তমানের স্বাগতমে -সৌমিত্র কুমার মণ্ডল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...

সম্পর্ক ভাঙার আগে একবার ভাবুন…

সবাই সুখ খোঁজে, কিন্তু খুব কম মানুষ দায়িত্ব নিতে চায়। একটা সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যায় না—ধীরে ধীরে ভাঙে। অবহেলা, না বলা কথা, আর অন্য কোথাও স্বস্তি খোঁজার অভ্যাস—এইগুলোই একসময় দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়— যে মানুষটা একসময় আপনার সবচেয়ে আপন ছিল, তাকে না বুঝে, না লড়েই ছেড়ে দেওয়া কি সত্যিই সমাধান? ভালোবাসা মানে শুধু ভালো লাগা না, ভালোবাসা মানে খারাপ সময়েও পাশে থাকার সিদ্ধান্ত। নতুন কারো কাছে শান্তি খোঁজার আগে, একবার ভেবে দেখুন—আপনি কি আপনার পুরোনো সম্পর্কটার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন? ভবে দেখুন বিপরিতের মানুষটা আপনার জন্য কি কিছুই করেনি?সে কি আপনার ভালোলাগা সবগুলোর মধ্য একটিও স্পর্শ করে নি?যদি না'ই হয় তাহলে আপনি কেনো এতোদিন তাকে সঙ্গ দিলেন? পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? কারণ সম্পর্ক ভাঙা সহজ, কিন্তু একটা সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা—খুব কঠিন। চলুন, আমরা সাময়িক অনুভূতির চেয়ে স্থায়ী সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিখি। বিশ্বাস ভাঙার আগে, একবার নিজের কাছেই প্রশ্ন করি— আমি কি সত্যিই আমার দায়িত্বটা পালন করেছি যেটা আমি তার কাছথেকে চাইছি?