প্রীয় দীপান্বিতা,
অবতারণিকায় স্মৃতিচারন,
যে দিন দগদগে ক্ষত নিয়ে একটি গধূলি নেমেছিল অভ্রভেদী উৎপল দ্বারে,
আমি সেদিন তাবু গেড়েছিলাম প্রাচীন আঁধারের হৃদপিণ্ডে।
তুমি মুষ্টিবন্দী করেছিলে কিছু তমিস্রা,
উন্মুক্ত কুন্তলে কৃষ্ণ অভ্র মেখে সম্মুখে এলে,দাবি করেছিলে একটি দ্যুতিময় হেম-কাব্য।
অথচ নিষাদী বর্ণমালায় লেখা আমার পংক্তিগুলো ছুঁতে পারেনি তোমার কৃশানু নেত্র-যুগল।
হয়তো অম্বরচুম্বিত অভিমানে বুদ হয়েছিলে সেদিন,
ঈপ্সাগুলো আঁচলে বেঁধে নিঃশব্দে ছিল তোমার আয়াসী প্রস্থান।
অথচ কি অদ্ভুত দেখো!
আমি পারিনি সেদিন নির্দয়ভাবে ভেঙে দিতে,সহস্র-শতাব্দীকালের আমার আমি'কে,
কিংবা পারিনি মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে তোমার সমুন্নত অভিমানী প্রচীর।
তোমার প্রস্থানে ফাটল ধরেছিল মহাকালের মস্তিষ্কে,
তল্পিতল্পা গুঁটিয়ে নিয়ে সময়গুলো তুরঙ্গারোহণী,
দামিনীর ন্যায় চলে গেছে তেঁপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে তমস্র কান্তার দিগন্তে,
পেরিয়ে গেছে চব্বিশটি বছর।
অথচ পিঞ্জর নিলয়ে পুষে রাখা বৈশ্বানর অর্ণবের মায়া কাটিয়ে উঠতে পারিনি আজো,
লিখতে পারিনি তোমার প্রত্যাগমনের ইন্দ্রজালিক হেম-কাব্য।
কেবল বুড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টিতে ধরেছি সপ্ত-সিন্ধুর ফেনিল ঊর্মি, চশমার মোটা ফ্রেমে বেঁধেছি তোমার ঘোলাটে টেরাকোটা ইন্দু-মুখ।
আচ্ছা,জীবনের ক্রান্তিলগ্নে যদি ঐ রক্তজবা অধরে একটি চুম্বনের তীব্র স্পৃহা জাগ্রত হয়,
তবে কি ভগ্নাভিলাস সঙ্গী করেই যবনিকা সাঙ্গ হবে..?
বাইশটি বছর তো কাটিয়ে দিয়েছি প্রেয়সী নিকোটিনের ওষ্ঠ চুম্বনে,
এবার নাহয় নিথর নিষ্কম্প ওষ্ঠে তোমার অম্লীয় চুম্বন এঁকে দিয়ে যেও।
কিংবা তোমার সমুন্নত সফেদ বক্ষের সুগভীর খাঁজে লেপ্টে দিও আমার হিম-ফ্যাকাসে মুখ,
তোমার শরীরী গন্ধ নিয়ে হোক আমার মহাপ্রস্থান.....
হোক মহাকালের পন্থানুসরণ কিংবা ইন্দ্রালয়ের অভিমুখে আমার মহাপ্রয়াণ......।
যমনিকায় বর্তমানের স্বাগতমে
-সৌমিত্র কুমার মণ্ডল।
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন