সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

খোলা চিঠি -২

২) প্রিয়া, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি? ব্যর্থতার ভারে আমি যখন হতাশ হয়ে যাই তখন তুমি আমার পাশে ছায়ার মতো থাকো। এরকম একজন পাশে থাকলে কোনো জীবন ব্যর্থ হবে না। অনেক তো বকবক করলাম। এবার বলো তোমার কী অবস্থা? স্বামী, সংসার নিয়ে সুখী তো? আচ্ছা তুমি কি একা থাকলে আমাকে খুব মিস করো? তখন তুমি কী করো? আচ্ছা বাসায় যখন একা থাকো, তখন আমাকে কি মনে পড়ে? পড়ে নিশ্চয়ই? তখন কি আমার কথা ভেবে কয়েক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দাও? প্রিয়তমা, আমার জন্য কখনো অশ্রু বিসর্জন দিও না। তোমার চোখের জল আমার জন্য অভিশাপ হয়ে আসবে। আমি চাই তুমি হাসবে। হাসিখুশিতে মেতে উঠবে তোমার জীবন। তোমার জীবনে কোনো হতাশা থাকবে না, দুঃখ থাকবে না। তুমি হবে সবচেয়ে সুখী মানুষ। আচ্ছা, আজকে কি রান্না করেছ?নিশ্চয়ই করলা আর আলুর ভাজি, মাছের তরকারি করেছ? নাকি আম+ডাল আর শাক করেছ? নাকি মুগের ডালে মাছের মাথাগুলো গুড়িয়ে দিয়ে কাঁটায় ভরিয়ে দিয়েছ? ইস! তোমার রান্নার এত বেশি ভক্ত আমি তা বুঝাতে পারব না(শুধু ঝাল আর লবন নিয়ে একটু প্রবলেম ছাড়া এটা কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ধরে নিও)। সত্যি তুমি অনেক ভালো রান্না করতে পারো। রান্নার সময় তুমি এত বেশি মনযোগী থাকো যে আমি ডাকলেও কখনও শুনতেই পাও না, তা আমাকে মটেও অবাক করে না। প্রিয়, তুমি জানো? তোমাকে নিয়ে কেউ সুনাম করলে আমার বুকটা অনেক বড় হয়ে যায়। আমি জানি তোমার কোনো হেটার্স থাকতে পারে না। কারণ তোমার পরিমিতিবোধ, তোমার ব্যক্তিত্ব অন্য যে কারো থেকে আলাদা করে দেয়। প্রিয়তমা, আমি তোমাকে একজন সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতে চাই। তোমার জীবনের সব ইতিবাচক পদক্ষেপে আমি সহযোগিতা করব।৩) প্রিয়তমা, আমি তোমাকে একজন সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতে চাই। তোমার জীবনের সব ইতিবাচক পদক্ষেপে আমি সহযোগিতা করব। কোনো ভুল হলে শুধরে দেবো। আমাকেও শুধরে দিও। জীবনের কোনো মুহূর্তে আমাকে ভুল বুঝো না। মনে কোনো প্রশ্ন জাগলে আমাকে জিজ্ঞাসা করো। আমি চেষ্টা করব সুন্দর করে উত্তর দিতে। একটা ছোট্ট ভুল সমগ্র পৃথিবীর প্রলয়ের কারন হতে পারে, সামান্য কারনে একটুখানি ভুল বোঝাবুঝি কয়েটি জীবন ধ্বংস হয়েযেতে এক মুহুর্ত ও সময় নেয় না, আমাদের ভালোবাসার এক মুহূর্তও যেন নষ্ট না হয় কখনও কোন ভুল বোঝাবুঝির জন্য। আমরা এ সময়গুলো আর ফিরে পাব না। তাই এই সোনালি মুহূর্তগুলো হারাতে চাই না। প্রিয়তমা, দেখতে দেখতে আমাদের সংসার জীবন প্রায় বছর পার করতে চললাম। সত্যি স্বপ্নের মতো দিনগুলো কেটে গেল। আগামীর দিনগুলোও যেন এভাবে কেটে যায় সে প্রার্থনা করো তোমার ঈশ্বরের কাছে । আগামীর দিনগুলো যেন আরো সুখী সমৃদ্ধিময় হয় সে আশীর্বাদ গুরুজনের কাছে আমার সর্বদা প্রার্থনা। আজ আর নয়, আবার না হয় আরেক সময় লিখব। সেদিন হয়তো আরো বেশি ভালোবাসাবাসির কথা লিখব। সেদিনের অপেক্ষায় থেকো। অনেক অনেক ভালো থেকো সেই শুভ কামনা রইল। ইতি তোমার সৌমিত্র।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...

সম্পর্ক ভাঙার আগে একবার ভাবুন…

সবাই সুখ খোঁজে, কিন্তু খুব কম মানুষ দায়িত্ব নিতে চায়। একটা সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যায় না—ধীরে ধীরে ভাঙে। অবহেলা, না বলা কথা, আর অন্য কোথাও স্বস্তি খোঁজার অভ্যাস—এইগুলোই একসময় দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়— যে মানুষটা একসময় আপনার সবচেয়ে আপন ছিল, তাকে না বুঝে, না লড়েই ছেড়ে দেওয়া কি সত্যিই সমাধান? ভালোবাসা মানে শুধু ভালো লাগা না, ভালোবাসা মানে খারাপ সময়েও পাশে থাকার সিদ্ধান্ত। নতুন কারো কাছে শান্তি খোঁজার আগে, একবার ভেবে দেখুন—আপনি কি আপনার পুরোনো সম্পর্কটার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন? ভবে দেখুন বিপরিতের মানুষটা আপনার জন্য কি কিছুই করেনি?সে কি আপনার ভালোলাগা সবগুলোর মধ্য একটিও স্পর্শ করে নি?যদি না'ই হয় তাহলে আপনি কেনো এতোদিন তাকে সঙ্গ দিলেন? পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? কারণ সম্পর্ক ভাঙা সহজ, কিন্তু একটা সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা—খুব কঠিন। চলুন, আমরা সাময়িক অনুভূতির চেয়ে স্থায়ী সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিখি। বিশ্বাস ভাঙার আগে, একবার নিজের কাছেই প্রশ্ন করি— আমি কি সত্যিই আমার দায়িত্বটা পালন করেছি যেটা আমি তার কাছথেকে চাইছি?