১)
প্রিয়তমা,
কেমন আছো? ভালো আছো নিশ্চয়ই? আমি ভালো আছি। ভালো থাকারই কথা। তোমার মতো এত দারুণ একটা মানুষের সাথে কেউ খারাপ থাকতে পারে? আজ তোমাকে আমি লিখতে বসেছি। মুখোমুখি দু'জনের একত্রে বসবাস তবুও মুখে কেনো জানি সব বলেওঠা হয় না।তাই ডিজিটাল এই মাধ্যমে ভাষা ভাষা চিত্র অঙ্কনের জন্য,যেনতেন কিছু না কিংবা কোনো প্রেমপত্রও না। তোমাকে আমি একটি চিঠি লিখতে বসেছি। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতার এ যুগে আমাদের আবেগ অনুভূতিকে মলিন করে দিয়েছে। চিঠি নামক ভালোবাসা ভরা কথাগুলো এখন হারিয়ে গেছে। আর এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের মাধ্যমে মনের কথাগুলো তোমাকে লিখলাম।
প্রিয়া, প্রথম যেদিন তোমার সাথে পরিচয় হয়েছিল সেদিনের কথা মনে আছে? একজন অপরিচিতা মেয়ের সাথে আমার যেমন আন ইজি লাগছিল, ঠিক তেমনি তোমারও আন ইজি লাগছিল কথোপকথনে। খুব miss করি তোমার miss you শব্দ গুচ্ছটাকে। তখনো আমরা জানতাম না আমাদের বিয়ে হবে। তোমার কপট মনের সরলতা, সততা দেখে আমি মুগ্ধ হই। এ যুগে এরকম মেয়েও আছে! কেমন যেন একটা ভালোবাসার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম। এরপর দেশে ফিরে তোমাকে দেখতে গেলাম।কতো না বিপদ ও প্রতিকুল পরিবেশের মধ্য দিয়েও ছুটে চলেএসেছিলাম । আহ! তোমাকে সরাসরি দেখার পর নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারলাম না। তোমার দেওয়া উপহারটি ছিলো সম্পুর্ন একটি ব্যতিক্রম যা এখনও আগলে আছি। এরপর কিভাবে যে বিয়ে হয়ে গেল টেরই পেলাম না। তবে বিয়ের আগে উৎকণ্ঠায় ছিলাম বিয়ে হবে কি না। এরপর একদিন বিয়ে হয়ে গেল। একটা বউও এলো আমার ঘরে। আমাদের সংসার জীবন শুরু হলো।
প্রিয়তমা, আমি জানি আমি হয়তো তোমার অনেক প্রয়োজন মেটাতে পারিনি। ইচ্ছে থাকলেও আমার সে সাধ্য নেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আমি। আমাদের অনেক সংগ্রাম করে বড় হতে হয়। তুমি আমাকে খুব ভালো করে বুঝো, জানো। তাই তো তুমি বলেছিলে, তোমাকে ভালোবাসা দিলেই তুমি খুশি। আর কিছুই দিতে হবে না। যেন তোমাকে ছেড়ে কোথাও না যাই। আমার অর্থ না থাকুক, কিন্তু ভালোবাসার কমতি ছিল না। আমি তোমাকে ভালোবাসি আমার জীবনের চেয়েও বেশি।
প্রিয়তমা, আমি জানি এ যুগে এরকম সাদা মাঠা কাউকে পাওয়া দুষ্কর। আমাদের দু’জনের ছুটে চলা নিরন্তর কোনো এক সমান্তরাল সীমারেখার দিকে। যেখানে শুধু ভালোবাসা দিয়ে সাজানো হয়েছে পৃথিবী। এখানে আছে একটুখানি মান-অভিমান। ভালোবাসার প্রতিযোগিতায় পরস্পরকে অতিক্রম করার অভিপ্রায়।(অপর পাতায়)
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন