সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মধ্যবিত্ত জীবন...সৌমিত্র

অলস বসন্ত, ঘরে চাল বাড়ন্ত, হাঁপানিটা বেশ বেড়েছে। চার কদম হাঁটলেই বুকটা কামারশালার হাপর, বায়ুর সমুদ্রে থেকেও অক্সিজেনের অভাব, জীবনটা যেন চোপসে যাওয়া পাঁপর। দপাদপ ইনহেলার টেনে আবার হাঁটা। এইতো জীবন। কর্মদীপ্ত দিনশেষে রাতে একটা ভালো ঘুম চাই।সে আর হলো কই?চোখ বুজে এলেই কে যেন গলা চেপে ধরে। আবার ইনহেলার, ভোরের দিকে একটু চোখ লেগে আসা। যেন শান্তনা পুরষ্কার। সকাল বেলা চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে থাকা,সৌভাগ্যে বসে পড়লে জানালার বাতাসে টলতে থাকা। ঢুলে পড়ে সহযাত্রির কুনইয়ের গুতো, কড়াস্বরে "সোজা হয়ে বসুন,রাতে ঘুমান নি নাকি?? অসহ্য জনগন" এইতো জীবন। ইন্সোরেন্স কোম্পানীর রোজকার আসা যাওয়া, দুঃচিন্তার কারণ, বিরক্তি,তিরিক্ষি মেজাজ, ভালো থাকার নেই একটাও কারন। দুপুরে কাজের ফাঁকে এক গ্লাস পানি আর সস্তা দামের কেক,সাথে পাঁচ মিনিট বাংলা সিনেমা। এরই নাম মধ্যান্যভোজন, এইতো জীবন। কাজ শেষে ফেরার পথে, চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে থাকা,পাশের সিটে হেলান। পায়ে ভারী জুতোর প্রবল চাপ,চোখে জল আসার মতো। প্রানটা অস্তির অস্তির। দমবন্ধ করা চাপাচাপি ভিড়। প্রতিবাদহীন,কেবল চেয়ে থাকা করুন। এইতো জীবন। বিকেলে বাজার,স্ত্রীর লম্বা লিস্ট। টুকটাক কেনাকেটা। বাড়ী ফেরার পালা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যাগ রেখে ফের ইনহেলার। সন্ধ্যায় ক্লান্ত বিদ্ধস্ত শরীর, এক কাপ চা। স্ত্রীর সিরিয়ালের নেশা।কয়েকটা সুখী জীবনের অকারন সমস্যা। নায়ক-নায়িকা, পথিবীর কোন পাপ স্পর্শ করে নি যাদের। খল-নায়িকা, নায়িকার স্বামীকে হস্তগত করার আকুল প্রচেষ্টা।বিরক্তি নিয়ে দেখা। সিরিয়াল শেষ, খেয়ে আবার ঘুমানোর প্রতিযোগীতা। সকালে অফিস। খুব তারাতারি ঘুমানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা। চোখ বুজে আসা। খকখক কাশি। স্ত্রীর কড়া প্রশ্ন, "আস্তে কাশতে পারো না?" মাথা ঝিমঝিম। ভোর বেলা কান্নার শব্দে পাড়া-প্রতিবেশির আগমন। শ্বশানে যাওয়া,কিংবা লাশ দাফন। এইতো জীবন। হ্যাঁ, মধ্যবিত্ত জীবন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...

সম্পর্ক ভাঙার আগে একবার ভাবুন…

সবাই সুখ খোঁজে, কিন্তু খুব কম মানুষ দায়িত্ব নিতে চায়। একটা সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যায় না—ধীরে ধীরে ভাঙে। অবহেলা, না বলা কথা, আর অন্য কোথাও স্বস্তি খোঁজার অভ্যাস—এইগুলোই একসময় দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়— যে মানুষটা একসময় আপনার সবচেয়ে আপন ছিল, তাকে না বুঝে, না লড়েই ছেড়ে দেওয়া কি সত্যিই সমাধান? ভালোবাসা মানে শুধু ভালো লাগা না, ভালোবাসা মানে খারাপ সময়েও পাশে থাকার সিদ্ধান্ত। নতুন কারো কাছে শান্তি খোঁজার আগে, একবার ভেবে দেখুন—আপনি কি আপনার পুরোনো সম্পর্কটার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন? ভবে দেখুন বিপরিতের মানুষটা আপনার জন্য কি কিছুই করেনি?সে কি আপনার ভালোলাগা সবগুলোর মধ্য একটিও স্পর্শ করে নি?যদি না'ই হয় তাহলে আপনি কেনো এতোদিন তাকে সঙ্গ দিলেন? পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? কারণ সম্পর্ক ভাঙা সহজ, কিন্তু একটা সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা—খুব কঠিন। চলুন, আমরা সাময়িক অনুভূতির চেয়ে স্থায়ী সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিখি। বিশ্বাস ভাঙার আগে, একবার নিজের কাছেই প্রশ্ন করি— আমি কি সত্যিই আমার দায়িত্বটা পালন করেছি যেটা আমি তার কাছথেকে চাইছি?