অলস বসন্ত,
ঘরে চাল বাড়ন্ত,
হাঁপানিটা বেশ বেড়েছে।
চার কদম হাঁটলেই বুকটা কামারশালার হাপর,
বায়ুর সমুদ্রে থেকেও অক্সিজেনের অভাব,
জীবনটা যেন চোপসে যাওয়া পাঁপর।
দপাদপ ইনহেলার টেনে আবার হাঁটা।
এইতো জীবন।
কর্মদীপ্ত দিনশেষে রাতে একটা ভালো ঘুম চাই।সে আর হলো কই?চোখ বুজে এলেই কে যেন গলা চেপে ধরে।
আবার ইনহেলার,
ভোরের দিকে একটু চোখ লেগে আসা।
যেন শান্তনা পুরষ্কার।
সকাল বেলা চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে থাকা,সৌভাগ্যে বসে পড়লে জানালার বাতাসে টলতে থাকা।
ঢুলে পড়ে সহযাত্রির কুনইয়ের গুতো,
কড়াস্বরে "সোজা হয়ে বসুন,রাতে ঘুমান নি নাকি?? অসহ্য জনগন"
এইতো জীবন।
ইন্সোরেন্স কোম্পানীর রোজকার আসা যাওয়া,
দুঃচিন্তার কারণ,
বিরক্তি,তিরিক্ষি মেজাজ,
ভালো থাকার নেই একটাও কারন।
দুপুরে কাজের ফাঁকে এক গ্লাস পানি আর সস্তা দামের কেক,সাথে পাঁচ মিনিট বাংলা সিনেমা।
এরই নাম মধ্যান্যভোজন,
এইতো জীবন।
কাজ শেষে ফেরার পথে, চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে থাকা,পাশের সিটে হেলান।
পায়ে ভারী জুতোর প্রবল চাপ,চোখে জল আসার মতো।
প্রানটা অস্তির অস্তির।
দমবন্ধ করা চাপাচাপি ভিড়।
প্রতিবাদহীন,কেবল চেয়ে থাকা করুন।
এইতো জীবন।
বিকেলে বাজার,স্ত্রীর লম্বা লিস্ট।
টুকটাক কেনাকেটা।
বাড়ী ফেরার পালা,
রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যাগ রেখে ফের ইনহেলার।
সন্ধ্যায় ক্লান্ত বিদ্ধস্ত শরীর,
এক কাপ চা।
স্ত্রীর সিরিয়ালের নেশা।কয়েকটা সুখী জীবনের অকারন সমস্যা।
নায়ক-নায়িকা,
পথিবীর কোন পাপ স্পর্শ করে নি যাদের।
খল-নায়িকা,
নায়িকার স্বামীকে হস্তগত করার আকুল প্রচেষ্টা।বিরক্তি নিয়ে দেখা।
সিরিয়াল শেষ,
খেয়ে আবার ঘুমানোর প্রতিযোগীতা।
সকালে অফিস।
খুব তারাতারি ঘুমানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা।
চোখ বুজে আসা। খকখক কাশি।
স্ত্রীর কড়া প্রশ্ন, "আস্তে কাশতে পারো না?"
মাথা ঝিমঝিম।
ভোর বেলা কান্নার শব্দে পাড়া-প্রতিবেশির আগমন।
শ্বশানে যাওয়া,কিংবা লাশ দাফন।
এইতো জীবন।
হ্যাঁ, মধ্যবিত্ত জীবন।
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন