সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
কেউ যদি আপনার ভালোবাসা গ্রহণ না করে প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাতে কষ্ট পাবেন না। বরং তার প্রতি কৃতজ্ঞ হোন। কেননা সে আপনাকে অকারণে ভালোবাসার ভান করে কষ্ট দিতে চায়নি৷ আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী সাময়িক মন রাখতে, আপনার সাথে ভনিতা করেনি। যে কষ্ট আপনি ভালোবাসা না পেয়ে পাচ্ছেন, এর চাইতে দ্বিগুণ কষ্ট প্রতারিত হওয়ার পর পেতেন। মানুষ ভালোবাসার ক্ষেত্রে যে নিখুঁত অভিনয় করে, তা কখনোই আপনি বুঝতেই পারবেন না। সে আপনাকে ঠকাতে চাইনি বলেই শুরুতে প্রত্যাখ্যান করে। আর এতে করে আপনি সাময়িক কষ্ট পেলেও অন্তত নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারবেন। তাকে ধন্যবাদ দিন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। সে সুযোগ থাকা স্বত্বেও আপনাকে ঠকায়নি। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যারা কাউকে ভালো না বেসেও দিব্যি অভিনয় করে যায়। এমন ভান করে, যেন তাকে জীবনটাই উৎসর্গ করে দিবে। একটা সময় পর যখন তার মোহ কেটে যায় কিংবা তার ইচ্ছে অনুযায়ী সম্পর্ক চলে না, তখন সে সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়াতে দ্বিতীয় বার ভাবে না। একটাবার ভেবে দেখুন তো, যাকে আপনি ভালোবাসেন, সে যদি আপনাকে প্রত্যাখ্যান না করে ভালো না বেসেও দিনের পর দিন ভালোবাসার অভিনয় করে যায়, কতটা নিজেকে ছোট মনে হবে? ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যান হওয়ার চাইতে ঠকে যাওয়ায় যন্ত্রণা বেশি! এ যন্ত্রণা কাউকে বলা যায় না, বোঝানো যায় না। শুধু নীরবে আমৃ ত্যু সহ্য করে যেতে হয়। আর এজন্যই বোধহয় শরৎচন্দ্র বলেছিলেন, “ যাহাকে ভালোবাসি, সে যদি ভালো না বাসে এমনকি ঘৃণাও করে, তাও বোধকরি সহ্য হয়। তবে যাহার ভালোবাসা পাইয়াছি বলিয়া এতদিন বিশ্বাস করিয়াছি, সেই খানে ভুল ভাঙ্গিয়া যাওয়াটাই সবচেয়ে নিদারুণ। পূর্বেরটা ব্যথা দেয়, তবে শেষেরটা ব্যথাও দেয়, অপমানও করে! ” ছেড়ে যাওয়ার যুগে এসেও এই যে আমি তোমার অপেক্ষায় বসে আছি, এটা কী ভালোবাসা নয়? কত উপেক্ষা, অবহেলা, অনাদর সহ্য করেও তোমাকে ভালোবেসে যাই। এই স্বার্থের যুগে এসেও তোমায় ছাড়া আর কী চেয়েছি? বলো তো... শুধু তোমাকেই ভালোবাসতে চেয়েছি। জীবনের সব অপ্রাপ্তির হিসাব না কষে আমি কেবল তোমায় চেয়েছি। তোমায় পেলেই যে সব পাওয়া হয়। এই ভালোবাসার দরকষাকষির যুগে এসেও আমি কেবল তোমায় ভালোবাসি। যে ভালোবাসা আমার ভাগ্যে নেই, কোনোদিন পাবো কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই, এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে ভালোবাসতে খুব কম মানুষই পারে! তোমায় ছাড়া আর কিছু চাইনি তো। সেই তোমার ভালোবাসাই আর পেলাম কই? কতকিছুই আমি অবলীলায় ছেড়ে যাই। ভালো থাকা, সুখী হওয়ার স্বপ্ন, জীবনের সব আনন্দ ছেড়ে দিয়ে আমি কেবল তোমাকেই চাই। এই ছেড়ে যাওয়ার যুগে এসেও আমি তীব্র প্রতীক্ষা নিয়ে পড়ে থাকি উপেক্ষায়, অবহেলায়! সবকিছু সহজলভ্যের যুগে এসেও তুমি কেমন দুষ্প্রাপ্য আমার কাছে! এত ভালোবেসেও তোমায় নিজের করে পাই না। পৃথিবীতে মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে যদি তাকে না বোঝে, তার না হয়, তবে মানুষ আর যাবে কই? বলো..

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...

সম্পর্ক ভাঙার আগে একবার ভাবুন…

সবাই সুখ খোঁজে, কিন্তু খুব কম মানুষ দায়িত্ব নিতে চায়। একটা সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যায় না—ধীরে ধীরে ভাঙে। অবহেলা, না বলা কথা, আর অন্য কোথাও স্বস্তি খোঁজার অভ্যাস—এইগুলোই একসময় দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়— যে মানুষটা একসময় আপনার সবচেয়ে আপন ছিল, তাকে না বুঝে, না লড়েই ছেড়ে দেওয়া কি সত্যিই সমাধান? ভালোবাসা মানে শুধু ভালো লাগা না, ভালোবাসা মানে খারাপ সময়েও পাশে থাকার সিদ্ধান্ত। নতুন কারো কাছে শান্তি খোঁজার আগে, একবার ভেবে দেখুন—আপনি কি আপনার পুরোনো সম্পর্কটার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন? ভবে দেখুন বিপরিতের মানুষটা আপনার জন্য কি কিছুই করেনি?সে কি আপনার ভালোলাগা সবগুলোর মধ্য একটিও স্পর্শ করে নি?যদি না'ই হয় তাহলে আপনি কেনো এতোদিন তাকে সঙ্গ দিলেন? পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? কারণ সম্পর্ক ভাঙা সহজ, কিন্তু একটা সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা—খুব কঠিন। চলুন, আমরা সাময়িক অনুভূতির চেয়ে স্থায়ী সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিখি। বিশ্বাস ভাঙার আগে, একবার নিজের কাছেই প্রশ্ন করি— আমি কি সত্যিই আমার দায়িত্বটা পালন করেছি যেটা আমি তার কাছথেকে চাইছি?