শুনেছি নারী নাকি পুরুষের এলোমেলো জীবন গুছিয়ে দিতে পারে, নারী নাকি পুরুষের অনুপ্রেরণার আরেক নাম।
হোক সে মা, অথবা বোন,
কিংবা প্রেমিকা নয়তোবা স্ত্রী।
এলোমেলো জীবন গুছিয়ে নিতে ভালোবাসলাম নারীকে, জানা ছিলো না মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ আছে।
নারীর ভালোবাসা যেমন তীক্ষ্ণ, নারীর অবহেলা তার চাইতেও বেশি ভয়াবহ! নারীর ভালোবাসা যেমন পুরুষকে সঠিক পথে, সঠিক ভাবে পরিচালনা করে, ঠিক তেমনি নারীর অবহেলা, পুরুষকে তীলে তীলে শেষ করে দেয়।
এলোমেলো জীবন গুছিয়ে নিতে যে নারীকে ভালোবাসলাম, সেই নারীর অবহেলায় আজ আমি নিঃস্ব! জীবন গুছাতে যে নারীকে অনুপ্রেরণা ভেবেছি, আজ সেই নারীর অবহেলায় হতাশাগ্রস্ত!
নারীর অবহেলায় আমি পথভ্রষ্ট।
যে নারীকে বিশ্বাস করে আঁকড়ে ধরে রইলাম, সেই নারী বিশ্বাস নিয়ে ছেলে খেলা শুরু করলো!
জানা ছিলো না, পৃথিবীতে সব মানুষ এক নয়। ভালোবাসা, আদর, সম্মান, দায়িত্ব, যত্ন, সময় দিয়ে সব নারীই, পুরুষকে আগলে রাখার ক্ষমতা রাখে না, রাখতে পারে না!
সব নারীরাই মা হয়, তবে সব নারীরা মায়ের মতো পরম মমতাময়ী হয়না! নারী জাতি মায়ের রুপেই মানায়, অন্য রুপে সব নারীকেই মানায় না!
একটু অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য নারীর পদতলে লুটিয়ে পড়েছি, চোখের জল ফেলতে ফেলতে আজ আমি ক্লান্ত, কিন্তু তাতেও মায়া হয়নি, তাতেও হৃদয় গলেনি কোনো নারীর!
নারী চাইলেই নাকি সব পারে, তবে সব নারীর পক্ষে কি আর সব কিছু সম্ভব? নাকি সম্ভব হলেও সৃষ্টিকর্তা ভাগ্যে না রাখলে, চাওয়া গুলো পূরণ হয়না?
নারীর অবহেলা যে পুরুষ একবার পায়, সেই পুরুষের ভালোবাসার স্বাদ মিটে যায়!
আমি তো জন্ম থেকেই নারীর অবহেলা পাচ্ছি, তবে কেন নারীকে ভালোবাসার স্বাদ মিটলো না? কেন হতাশাগ্রস্ত হয়ে নারীর পদতলে লুটিয়ে পড়ি বার বার?
তবে আমি কি পুরুষ হতে পারি নি এখনো? এখনো কি সেই আগের অবুঝ বাচ্চা রয়েছি? যে পুরুষের জীবনে নারীর ভালোবাসা নেই, সেই পুরুষের জীবনে নারীর অবহেলার কমতি নেই!
তাই আজ নারীর অবহেলাকেই, নিজের অনুপ্রেরণা হিসাবে নিয়েছি। কিছু পাই বা না পাই, তাতে কার কি আসে যায়? নারী তো নারীই, সব নারীই তো আর মায়ের মত যত্নে রাখে না!
সব নারীই তো আর পৃথিবীতে পুরুষকে শুধুমাত্র ভালোবাসার জন্যই আসে না!
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন