মানুষের দুর্ভাগ্য মূলত এটাই, সে নিজের দুঃখ যাকে বলবে, সেই দুঃখ দেয়! যাকে বলবে, “ তার খুব কষ্ট হচ্ছে, ” সেই মানুষটাই কষ্ট দিয়ে দিব্যি ভালো থাকে।
মানুষ দুঃখ চেপে রাখতেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নিজের কমফোর্টেবল জায়গা ছাড়া, মানুষ ছাড়া কারো কাছেই কিছু প্রকাশ করা যায় না, করার ইচ্ছেও হয় না। আর সেই জায়গায় মানুষের যখন বিন্দুমাত্র গুরুত্ব থাকে না, সেখানে মানুষ নিজেকে অসহায় ভাবে!
পৃথিবীতে যারা নিজের কষ্টের কথা, নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথা, নিজের ইচ্ছের কথা কাউকে বলতে পারে না, তারা সত্যিই দুর্ভাগা মানুষ! আমরা বাইরের মানুষটাকে দেখে ভাবি, মানুষটা গম্ভীর। আসলে সেই মানুষটাই বলতে চায়, খুব করে বলতে চায়, তবে যাকে বলতে চায় সে বোঝে না, শোনে না, শুনতে চায় না! যেখানে বললে মানুষ তার কথার মূল্য পাবে, অনুভূতির মূল্য পাবে, সেখানেই সব কথা মানুষ উগড়ে দিতে চায়।
যাদের একটি মনোযোগী শোনার মানুষ আছে, তাদের কোনো দুঃখ নেই। পৃথিবীতে দুখী তো তারাই, যাদের মানুষ আছে তবে শোনার মতো ধৈর্য কিংবা সময় নেই। যারা উদাসীন, অনাগ্রহী, এমনকি যারা দুঃখ দিতে ভালোবাসে। মানুষের দুর্ভাগ্য এটাই, নিজের কষ্ট যাকে বলবে, সেই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়!
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন