আমি অভিযোগ করছি না, আমায় ভালো না বাসার জন্য। শুধু বলছি, কেন সত্যিটা লুকিয়ে রাখলে? কেন ভনিতা করলে? কেন বললে না, আমাকে তোমার ভালো লাগছে না?
তোমার ভালোবাসা পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র কোনো আক্ষেপ নেই। শুধু দুঃখটা হচ্ছে, এই যে এতদিন ভালোবাসো ভেবে যে স্বপ্ন আমি দেখেছি, যে আশার সঞ্চার নিয়ে আমি একটু একটু করে তোমাতে গভীর হলাম, এখন নিজেকে সান্ত্বনা দেই কী করে? বলো তো....
কী করে নিজেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনবো? পৃথিবীতে মানুষ ভালোবাসা ছাড়াও বেঁচে থাকে, তবে ভালোবেসে যে একবার ঠকেছে, তার আর বেঁচে থাকার ইচ্ছে নেই!
এই যে দিনের পর দিন কথা না বলে থাকতে পারো, চোখের দেখা, সে তো দূর কি বাত। পৃথিবীর সবকিছুতে তোমার সময় হয়, শুধু আমার বেলায় তোমার যত ব্যস্ততার অজুহাত। এর পরও বলবে, ভালোবেসে ছিলে?
তোমার সময় না পাওয়া নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। শুধু জিজ্ঞেস করি, সম্পর্কের শুরুতে কেন অফুরন্ত কথা হতো আমাদের? কেন অসংখ্য স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকতে হয়?
ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার সবারই আছে। তবে কাউকে ভালো না বেসেও তার সাথে ভালোবাসার ভান করার অধিকার তো কারো নেই। সেই অনধিকার চর্চায় তুমি আমায় ঠকালে, এখন তবে ঠকাচ্ছো আর কাকে?
বেদনার বিষাদ গড়ে উঠেছে বুকে, চারদিকে কেবল শূন্যতাদের বসবাস!
আনন্দ অনুভূতিরা পালিয়েছে আমার থেকে, আমি নাকি তাদের ভালো রাখার ক্ষমতা রাখিনা। কতদিন হয়ে গেল, ওরা আমায় আলিঙ্গন বিলায় না!
চারপাশের মানুষের তীক্ষ্ণ চাহুনি, আমাকে ভীতসন্ত্রস্ত অসহায় মানবে পরিণত করে যেন। সন্ধ্যা নামলেই কুকুরের দল পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভেঙ্গচি কাটে!
মন খারাপের দলগুলোও কেমন দাঁত কেলিয়ে হাসতে থাকে আমায় দেখে! সেই কতদিন হয়, আমি ওদের মতো হাসি না!
এদিকে কান্না জমে গেছে বুকে, কান্না জমতে জমতে আজ আমি বধির হয়ে আছি!
শুনেছি,
তুমিও আমায় ঘৃণা করো!
বেশ তো...
আমিও যে তোমার থেকে বেশি ঘৃণা করি নিজেকে! নিজেকে ঘৃণা করি বলেই তো বারবার, নিজেকে ভেঙ্গেচুরে আবার পুনরুজ্জীবিত হয়ে গড়ে তুলি দুঃখের দেয়াল। তারপর সেই দেয়ালের এপাশ থেকে কাঁদতে থাকি নীরবে!
তুমি কি সেই কান্নার শব্দ শুনতে পাও?
তুমি কি শুনতে পাও, সে গভীর আর্তনাদ?
আমি জানি,
সবাই আমায় ঘৃণা করে। তবে সবাই জানে না; আমিও নিজেকে খুব ঘৃণা করি-খুউব ঘৃণা করি!
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন