ছোটবেলায় আমিও অনেক ধনী ছিলাম! বৃষ্টি হলে জমে থাকা জলে আমারও তিন-চারটে নৌকা, জাহাজ ভেসে বেড়াত।
কাগজের হলে কি হবে, আকাশে আমারও বিমান উড়ে যেত! ছোটখাটো দূরত্বগুলো কাগজের প্লেনে চড়েই পাড়ি দিতাম।
প্রাসাদ, অট্টালিকা আমিও বানিয়েছিলাম — হয়তো সেগুলো মাটি বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি, কিন্তু একান্তই আমার ছিল!
ব্যবসা আমারও ছিল। নারকেলের মালা দিয়ে দাঁড়িপাল্লা বানিয়ে জিনিস কেনাবেচা করতাম!
রাঁধুনি আমিও ছিলাম! ছোট ছোট মাটির হাঁড়িপাতিলে রান্না করে কলাপাতায় ভাত বেড়ে দিতাম।
তখন আমিও বিজ্ঞানী ছিলাম। ফেলে দেওয়া পুরনো ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পানি ভরে বিভিন্ন গাছের শাখা-প্রশাখায় ইনজেকশন দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম।
এখন আর কোথায় পাব সেইসব বড়লোকি চাল? শৈশবটাকে বড্ড বেহিসেবি খরচ করে ফেলেছি যে! তাই আজ আমি বড়ই গরীব।
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন