সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আপনি কী শুধু চাকরি করছেন, নাকি সচেতনভাবে ক্যারিয়ার গড়ছেন?

অনেকেই দিনের পর দিন কাজ করছেন, কিন্তু জানেন না তারা আদৌ কোথায় যাচ্ছেন। ঠিক গন্তব্য ছাড়া যেমন কোনো জাহাজ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাতে পারে না, তেমনি ক্যারিয়ারেও দিকনির্দেশনা ছাড়া আপনি কেবল ঘুরপাক খাবেন। ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট মানে হলো, নিজের ফিউচার প্রফেশনাল লাইফকে সচেতনভাবে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা। এটা শুধু নতুন চাকরি পাওয়া বা পদোন্নতির কথা না, এটা নিজের ভ্যালু তৈরি করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং একটা অর্থবহ প্রফেশনাল পরিচয় গড়ে তোলা। ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট জরুরি কেন? ১. দিক হারানোর ঝুঁকি কমায় আপনার যদি ক্যারিয়ার লক্ষ্য না থাকে, তাহলে আপনি যে কাজ করছেন, সেটা আপনাকে কোথায় নিয়ে যাবে সেটা অজানা থাকবে। ফলে সময়, শ্রম ও মেধার অপচয় হতে পারে। ২. প্রফেশনাল অগ্রগতি নিশ্চিত করে আপনি যদি জানেন কোন দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা আপনার প্রোমোশন বা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন, তাহলে লক্ষ্য করে সেই উন্নয়ন করা সহজ হয়। ৩. ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস ও স্পষ্টতা বাড়ায় যখন আপনি জানেন, আপনি কোন দিকে যাচ্ছেন — সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি নেওয়া ও নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে সাহসী হয়ে উঠবেন। ৪. চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তোলে বর্তমান কর্মজগতে শুধু অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। স্কিল, অ্যাডাপ্টেবিলিটি এবং লার্নিং অ্যাটিটিউড দিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে হয়। ক্যারিয়ার প্ল্যান আপনাকে সেই প্রস্তুতি দেয়। উদাহারন স্বরূপ আসিফ, একজন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি ছিলেন। তিনি প্রতি বছর নিজেকে ৩টি নতুন দক্ষতা শেখার লক্ষ্য দেন। লিডারশিপ, ডেটা অ্যানালাইসিস, এবং পাবলিক স্পিকিং। ৪ বছরে তিনি একজন টিম লিডার হয়ে ওঠেন এবং এখন নিজেই কর্পোরেট ট্রেনিং নেন। আসিফ সাহেবের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ছিল পরিকল্পিত। আপনি কীভাবে শুরু করবেন? প্রথম ধাপে নিজের অবস্থান বিশ্লেষণ করুন: আপনি এখন কোথায় আছেন? আপনার কী স্কিল আছে? আপনার দুর্বলতা কী? দ্বিতীয় ধাপে ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: আপনি ২/৩ বছর পর কোথায় থাকতে চান? আপনি কেমন পদে যেতে চান? তৃতীয় ধাপে স্কিল গ্যাপ চিহ্নিত করুন ও পরিকল্পনা করুন: কী শিখতে হবে? কী অভিজ্ঞতা লাগবে? এরপর প্রতিদিন ৩০ মিনিট নিজেকে সময় দিন শেখার জন্য। একটু চিন্তা করে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: আমি কি প্রতিদিন শুধু বেঁচে থাকার জন্য কাজ করছি? নাকি আমি এমন কিছু তৈরি করছি, যা ৫ বছর পর গর্ব করার মতো?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...

সম্পর্ক ভাঙার আগে একবার ভাবুন…

সবাই সুখ খোঁজে, কিন্তু খুব কম মানুষ দায়িত্ব নিতে চায়। একটা সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যায় না—ধীরে ধীরে ভাঙে। অবহেলা, না বলা কথা, আর অন্য কোথাও স্বস্তি খোঁজার অভ্যাস—এইগুলোই একসময় দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়— যে মানুষটা একসময় আপনার সবচেয়ে আপন ছিল, তাকে না বুঝে, না লড়েই ছেড়ে দেওয়া কি সত্যিই সমাধান? ভালোবাসা মানে শুধু ভালো লাগা না, ভালোবাসা মানে খারাপ সময়েও পাশে থাকার সিদ্ধান্ত। নতুন কারো কাছে শান্তি খোঁজার আগে, একবার ভেবে দেখুন—আপনি কি আপনার পুরোনো সম্পর্কটার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন? ভবে দেখুন বিপরিতের মানুষটা আপনার জন্য কি কিছুই করেনি?সে কি আপনার ভালোলাগা সবগুলোর মধ্য একটিও স্পর্শ করে নি?যদি না'ই হয় তাহলে আপনি কেনো এতোদিন তাকে সঙ্গ দিলেন? পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? কারণ সম্পর্ক ভাঙা সহজ, কিন্তু একটা সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা—খুব কঠিন। চলুন, আমরা সাময়িক অনুভূতির চেয়ে স্থায়ী সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিখি। বিশ্বাস ভাঙার আগে, একবার নিজের কাছেই প্রশ্ন করি— আমি কি সত্যিই আমার দায়িত্বটা পালন করেছি যেটা আমি তার কাছথেকে চাইছি?