সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লিডারশিপ বা নেতৃত্বের ২০টি অপ্রিয় সত্য

১. শীর্ষস্থান খুব নিঃসঙ্গ (Lonely at the top): আপনি যখন লিডার হবেন, তখন আপনার বন্ধুর সংখ্যা কমে যাবে। আপনি চাইলেই অধস্তনদের সাথে সব কথা শেয়ার করতে পারবেন না। দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। ২. সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না: আপনি যতই ভালো লিডার হোন, কিছু মানুষ আপনাকে ঘৃণা করবে। সবার প্রিয় হতে চাইলে আইসক্রিম বিক্রি করুন, লিডার হবেন না। ৩. ক্রেডিট দিতে হবে, ব্লেম নিতে হবে: ভালো কিছু হলে কৃতিত্ব টিমকে দিতে হবে, আর খারাপ কিছু হলে দায়ভার একা কাঁধে নিতে হবে। এটাই লিডারশিপের নিষ্ঠুর নিয়ম। ৪. কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়: মাঝেমধ্যে বাজেট কমানো বা কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা আপনার রাতের ঘুম হারাম করে দেবে। ৫. আপনি কারো গল্পের ভিলেন: আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেও, কারো না কারো স্বার্থে আঘাত লাগবে এবং তার কাছে আপনি ভিলেন হয়ে থাকবেন। ৬. আবেগ লুকানো: আপনার নিজের মন খারাপ বা ভয় থাকলেও টিমের সামনে হাসিমুখে এবং কনফিডেন্ট থাকতে হবে। লিডারের দুর্বলতা দেখাতে নেই। ৭. শ্রোতা হতে হয়: লিডারদের কাজ বলা নয়, শোনা। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ শোনার ধৈর্য রাখে না বলেই ভালো লিডার হতে পারে না। ৮. উদাহরণ তৈরি করা (Lead by Example): আপনি দেরি করে অফিসে এসে টিমকে সময়ের মূল্য বোঝাতে পারবেন না। আপনাকে টিমের চেয়ে বেশি কাজ করে দেখাতে হবে। ৯. কৃতজ্ঞতা আশা করবেন না: আপনি কারো ক্যারিয়ার গড়ে দিলেও সে আপনাকে মনে রাখবে না। অকৃতজ্ঞতা সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে। ১০. ফিডব্যাক নেওয়া কঠিন: নিজের সমালোচনা মুখের ওপর শোনা খুব কঠিন, কিন্তু একজন ভালো লিডারকে সেই তিতা ওষুধ গিলতে হয়। ১১. সবাই লিডার হতে পারে না: "সবাই লিডার"—এটা মোটিভেশনাল কথা। বাস্তবে কিছু মানুষ শুধু ফলোয়ার হিসেবেই ভালো থাকে, লিডারশিপের চাপ তারা নিতে পারে না। ১২. ধৈর্যের পরীক্ষা: টিম মেম্বাররা বারবার ভুল করবে, বোকার মতো কাজ করবে। তখন রাগ না করে তাদের শিখিয়ে দেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। ১৩. মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট বিষ: আপনি সব কাজ নিজে করতে চাইলে বা খুঁতখুঁত করলে টিম বিরক্ত হবে। কাজ ডেলিগেট (Delegate) করতে না পারলে আপনি লিডার নন, আপনি শুধুই একজন ব্যস্ত কর্মী। ১৪. ভিশন বিক্রি করা: মানুষ কাজ করে টাকার জন্য, কিন্তু সেরাটা দেয় স্বপ্নের জন্য। লিডারকে সেই স্বপ্ন বা ভিশন বিক্রি করতে জানতে হয়। ১৫. ইগো বিসর্জন: লিডার হলে "আমিই বস, আমিই সেরা"—এই ইগো ছাড়তে হয়। জুনিয়রের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা থাকতে হয়। ১৬. পরিবর্তন মেনে নেওয়া: পরিস্থিতি পাল্টালে প্ল্যান পাল্টাতে হয়। নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকা সবসময় ভালো গু্ণ নয়, এটাকে একগুঁয়েমি বলে। ১৭. স্বাস্থ্যঝুঁকি: লিডারশিপের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। ১৮. পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন: বড় দায়িত্ব মানেই বেশি সময়। অনেক লিডার তাদের সন্তানদের বড় হতে দেখার সময়টুকু পান না। ১৯. নিরপেক্ষতা: পছন্দের কর্মীর ভুল মাফ করা আর অপছন্দের কর্মীকে শাস্তি দেওয়া—এই পক্ষপাতিত্ব লিডারশিপের কবর রচনা করে। ২০. বিকল্প তৈরি করা: আপনি যেদিন আপনার চেয়ারে অন্য কাউকে বসিয়ে দিয়ে যেতে পারবেন (Succession Planning), সেদিনই আপনি সফল লিডার। নিজের চেয়ার আঁকড়ে থাকা লিডারশিপ নয়। লিডার হওয়া মানে শুধু হুকুম দেওয়া নয়, লিডারশিপ হলো কাঁটার মুকুট পরা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

ছোটবেলায় আমিও অনেক ধনী ছিলাম!

ছোটবেলায় আমিও অনেক ধনী ছিলাম! বৃষ্টি হলে জমে থাকা জলে আমারও তিন-চারটে নৌকা, জাহাজ ভেসে বেড়াত। কাগজের হলে কি হবে, আকাশে আমারও বিমান উড়ে যেত! ছোটখাটো দূরত্বগুলো কাগজের প্লেনে চড়েই পাড়ি দিতাম। প্রাসাদ, অট্টালিকা আমিও বানিয়েছিলাম — হয়তো সেগুলো মাটি বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি, কিন্তু একান্তই আমার ছিল! ব্যবসা আমারও ছিল। নারকেলের মালা দিয়ে দাঁড়িপাল্লা বানিয়ে জিনিস কেনাবেচা করতাম! রাঁধুনি আমিও ছিলাম! ছোট ছোট মাটির হাঁড়িপাতিলে রান্না করে কলাপাতায় ভাত বেড়ে দিতাম। তখন আমিও বিজ্ঞানী ছিলাম। ফেলে দেওয়া পুরনো ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পানি ভরে বিভিন্ন গাছের শাখা-প্রশাখায় ইনজেকশন দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম। এখন আর কোথায় পাব সেইসব বড়লোকি চাল? শৈশবটাকে বড্ড বেহিসেবি খরচ করে ফেলেছি যে! তাই আজ আমি বড়ই গরীব।

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...