তোমার গায়ের রঙে আছে
রাত্রির গভীরতা—
যেন আকাশভরা অমাবস্যা
তবু তাতে লুকিয়ে থাকে
হাজার নক্ষত্রের গোপন ব্যথা।
তুমি কৃষ্ণবর্ণা—
তাই বলে কি আলো কম তোমার?
বরং সূর্যের তাপও হার মানে
তোমার মনের দীপ্তির কাছে বারবার।
মাটির মতো শ্যামল তুমি,
বর্ষার ভেজা ধানক্ষেতের মতো স্নিগ্ধ—
তোমার হাসি ঝরে পড়ে
কৃষ্ণ মেঘ ভেঙে নামা প্রথম বৃষ্টির নিঃশব্দ নিঃশ্বাসে।
তোমার চোখে আছে
গভীর নদীর স্রোত,
যেখানে ডুব দিলে মানুষ
নিজেকেই খুঁজে পায় নতুন রূপে।
সমাজ কখনো রঙ মেপে ভালোবাসে,
কখনো রূপে সাজায় অহংকার—
কিন্তু তুমি প্রমাণ,
সৌন্দর্য জন্মায় আত্মার আলোয়,
চামড়ার রঙে নয়, ভালোবাসার উচ্চারণে।
হে কৃষ্ণবর্ণা,
তোমার রঙে আমি খুঁজি
ধরিত্রীর স্পর্শ,
তোমার ছায়ায় পাই আশ্রয়—
আর তোমার ভালোবাসায়
রাতও হয়ে ওঠে পূর্ণিমার চেয়েও উজ্জ্বল। 🌙
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন