পেশাদার জীবনে আমরা প্রায়ই একটি প্রচলিত প্রবাদ শুনি— "আমি পারলে, তুমিও পারবে।" মোটিভেশন হিসেবে এটি ইতিবাচক শোনালেও, বাস্তবমুখী ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে এটি সবসময় কার্যকর নয়। এর মূল কারণ হলো প্রতিটি ব্যক্তির 'রিস্ক প্রোফাইল' এবং 'রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট' ভিন্ন হয়।
পাহাড়ি ছাগল এবং ঘোড়ার উদাহরণটি এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। উভয়েই শক্তিশালী প্রাণী, কিন্তু তাদের 'কোর কম্পিটেন্সি' বা মূল দক্ষতা ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে কার্যকর। কর্পোরেট জগতেও আমাদের নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
১. আর্থিক সক্ষমতা ও রিস্ক অ্যাপিটাইট: যার পর্যাপ্ত মূলধন বা ব্যাকআপ আছে, তার ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা এবং একজন নতুন উদ্যোক্তার ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা এক নয়। কৌশলগত ভুল একজনের জন্য কেবল একটি 'শিক্ষা' হতে পারে, কিন্তু অন্যজনের জন্য তা 'অস্তিত্বের সংকট' তৈরি করতে পারে।
২. মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিস্থাপকতা (Psychological Resilience): প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার ক্ষমতা সবার সমান নয়। কেউ উচ্চচাপে (High-pressure environment) সেরা আউটপুট দেয়, আবার কেউ সুশৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল পরিবেশে অধিক উৎপাদনশীল।
৩. ইকোসিস্টেম এবং সাপোর্ট নেটওয়ার্ক: একজনের নেটওয়ার্ক এবং পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা অন্যজনের থেকে ভিন্ন হতে পারে। অন্যের অর্জিত সাফল্যের সমীকরণ আপনার ক্ষেত্রে হুবহু না মেলাই স্বাভাবিক।
উপসংহার:
অন্যের সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিন, তাদের কৌশলগুলো বিশ্লেষণ করুন, কিন্তু আপনার কর্মপরিকল্পনা সাজান নিজের সক্ষমতা (Strength) এবং সীমাবদ্ধতা (Limitation) বিবেচনা করে। অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং নিজের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ 'কাস্টমাইজড স্ট্র্যাটেজি' তৈরি করাই প্রকৃত পেশাদারিত্ব।
মনে রাখবেন, গন্তব্য এক হলেও সবার পথ এবং গতি আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন