দিনশেষে ঘরে ফেরা, ক্লান্ত শরীর—
তবুও পরিবারের শপিং এর আবদার মেটাতে রংবাহারি গার্মেন্টসে।
প্রীয় মানুষটির আব্দারে আমড়া মাখানো সেই টঙের দোকানে,
অপেক্ষা করছিল এক টুকরো অবহেলা মাখা ;
ছেঁড়া কাগজের ভাঁজে লুকানো এক এতিম শিশুর হাহাকার।
তারপর এতিমখানার সেই ধুলোমাখা পথ,
খুঁজে ফিরলাম তাকে, যার কলম কথা বলে মায়ের সাথে।
দশ টাকার বিনিময়ে যে বিক্রি করেছে নিজের আবেগ লেখা খাতাগুলো,
আবার মায়ের কাছে চিঠি লিখবে বলে—
সে এক জিসান, যার মা নেই, কিন্তু স্মৃতিরা সজীব।
আমার স্ত্রীর বুকের গভীরে চেপে ধরা সেই ছোট্ট শরীর,
অঝোর ধারায় সিক্ত হলো আমার আর আমার প্রীয় স্ত্রীর চোখ।
মায়ের ঠিকানায় আজ আবার চিঠি যাবে,
পাঁচটি নতুন খাতা আর সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি,সাবান, কৌটা ভরে খাবার আর মশারীতে
জিসান প্রাণবন্ত হাসি হাসলো, আর আমার হৃদয়ে ফিরলো প্রশান্তি। জিসান বাবা তুমি বড় হও আমি আবার বার বার আসবো তোমার জন্য তুমি আমার সন্তান সমতুল্য।।।
এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন