সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভরসা রাখো, ঈশ্বর সঙ্গে আছেন...

জীবনের পথে কখনও কখনও এমন ঝড় আসে, যখন মনে হয়—সবকিছু বুঝি ভেঙে পড়বে। কিন্তু যারা সত্যিই ঈশ্বরের ওপর ভরসা রাখতে জানেন, তারা জানেন—তিনি কখনো তাঁর ভক্তকে একা ফেলে দেন না। একটি সুন্দর গল্প আছে। এক নবদম্পতি নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রবল ঝড় শুরু হলো। স্ত্রী ভয়ে কাঁপতে লাগলেন, অথচ স্বামী ছিলেন সম্পূর্ণ শান্ত। স্ত্রীর উদ্বেগ দূর করতে স্বামী আলতো করে একটি ছুরি তাঁর গলার কাছে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি ভয় পাচ্ছ?" স্ত্রী মৃদু হেসে বললেন, "না। কারণ ছুরিটি আপনার হাতে। আপনি আমার আপন মানুষ—আপনি কখনোই আমার ক্ষতি করবেন না।" স্বামী তখন শান্ত কণ্ঠে বললেন, "ঠিক তেমনই, এই ঝড়কেও আমি ভয় পাই না। কারণ ঈশ্বর আমার আপন। তিনি আমাকে ধ্বংস করতে চান না; তিনি শুধু আমার বিশ্বাসের দৃঢ়তা যাচাই করছেন।" যখন আমরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি যে ঈশ্বরই আমাদের রক্ষাকর্তা, তখন পৃথিবীর কোনো ঝড়ই আমাদের মনের শান্তি কেড়ে নিতে পারে না। তিনি প্রতিটি বিপদের মাঝেও আমাদের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যান এবং নিরাপদ তীরে পৌঁছে দেন। জীবনের প্রতিটি পরীক্ষা, প্রতিটি কষ্ট—পরাজয়ের বার্তা নয়; বরং বিশ্বাসের একেকটি পরীক্ষা। যারা অটল আস্থায় নিজেকে ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করতে পারেন, তারা অন্ধকারের মাঝেও সাহস খুঁজে পান, ঝড়ের মাঝেও শান্তি অনুভব করেন এবং শেষ পর্যন্ত আশার আলোয় পৌঁছে যান। ভরসা রাখুন—ঝড় যতই প্রবল হোক, ঈশ্বরের কৃপা আপনার নৌকাকে সঠিক তীরেই পৌঁছে দেবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাজার আগে রানী নয়

এক দেশে ছিল দুই নারী—একজনের নাম প্রজ্ঞা, আরেকজনের নাম অহংকার। দু’জনেই একই রকম সংসারে পা রেখেছিল। একই রকম উঠোন, একই রকম মানুষের ভিড়, একই রকম হাসি-কান্না। কিন্তু সময়ের সাথে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। প্রজ্ঞা বুঝেছিল, সংসার আসলে একটা রাজ্য। এ রাজ্যের রাজা শুধু একজন মানুষ নয়—এখানে শ্বশুরের সম্মান, শাশুড়ির মুখের হাসি, স্বামীর পরিশ্রম, ভাইবোনের সম্পর্ক—সব মিলেই রাজ্যের ভিত্তি। তাই সে নিজের হাতে সংসারের ভাঙা দেয়ালে রঙ করেছে, ক্লান্ত মানুষদের কপালে স্নেহের জল ছুঁইয়ে দিয়েছে, স্বামীর ছোট সাফল্যকেও মানুষের সামনে গর্ব করে বলেছে। লোকেরা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল— “কি সুন্দর পরিবার!” “কি ভদ্র ছেলে!” “কি সম্মানিত মানুষ!” আর সেই প্রশংসার আলো যখন পুরো পরিবারকে আলোকিত করল, তখন অজান্তেই প্রজ্ঞার মাথাতেও মুকুট উঠে এলো। কারণ মানুষ জানে— যে নারী একটি পরিবারকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, সে নিজেও সম্মানের যোগ্য। রাজ্য বড় হলে রানীর মর্যাদাও বড় হয়। অন্যদিকে অহংকার প্রতিদিন নিজের ঘরের মানুষদের ছোট করত। স্বামীর ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের সামনে হাসত, শ্বশুরবাড়ির দোষ গল্পের মতো ছড়িয়ে বেড়াত, সম্পর্কের ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে...

ছোটবেলায় আমিও অনেক ধনী ছিলাম!

ছোটবেলায় আমিও অনেক ধনী ছিলাম! বৃষ্টি হলে জমে থাকা জলে আমারও তিন-চারটে নৌকা, জাহাজ ভেসে বেড়াত। কাগজের হলে কি হবে, আকাশে আমারও বিমান উড়ে যেত! ছোটখাটো দূরত্বগুলো কাগজের প্লেনে চড়েই পাড়ি দিতাম। প্রাসাদ, অট্টালিকা আমিও বানিয়েছিলাম — হয়তো সেগুলো মাটি বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি, কিন্তু একান্তই আমার ছিল! ব্যবসা আমারও ছিল। নারকেলের মালা দিয়ে দাঁড়িপাল্লা বানিয়ে জিনিস কেনাবেচা করতাম! রাঁধুনি আমিও ছিলাম! ছোট ছোট মাটির হাঁড়িপাতিলে রান্না করে কলাপাতায় ভাত বেড়ে দিতাম। তখন আমিও বিজ্ঞানী ছিলাম। ফেলে দেওয়া পুরনো ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পানি ভরে বিভিন্ন গাছের শাখা-প্রশাখায় ইনজেকশন দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম। এখন আর কোথায় পাব সেইসব বড়লোকি চাল? শৈশবটাকে বড্ড বেহিসেবি খরচ করে ফেলেছি যে! তাই আজ আমি বড়ই গরীব।

"পানোর্জেরনোর্জের মেষ"

ফরাসি সাহিত্যের একটা তাৎপর্যময় গল্প হলো Mouton de Panurge। দু মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়লে আশাকরি আমাদের চিন্তা কিছুটা শানিত হবে। ফরাসী ভদ্রলোক পানোর্জ নদী পার হতে নৌকার যাত্রী হয় । নদীটা বেশ স্রোতস্বীনি। একই নৌকায় যাত্রী হিসাবে ওঠে ডেনডুনো নামক এক মেষ ব্যবসায়ী। তার সাথে অসংখ্য মেষ। ডেনডুনো খুবই মুনাফা আর অর্থলোভী ব্যবসায়ী। মানবতাবোধ , মহত্ত্ব ইত্যাদি থেকে সে যোজন যোজন দূরে। তার জীবনের সমস্ত কিছু শুধু অর্থ আর মুনাফা দিয়ে ঠাসা। নৌকাটি যখন নদীর মাঝপথে ঠিক এমন সময় পানোর্জ এবং ডেনডুনোর মধ্যে বেশ বাকবিতন্ডা হয়। পানোর্জ প্রতিজ্ঞা করে সে মুনাফালোভী ডেনডুনোকে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিবে। পানোর্জ ডেনডুনোর কাছ থেকে বড় একটা মেষ বেশ উচ্চমূল্যে কিনে নেয়। মেষটিকে দেখেই মনে হচ্ছিলো এই মেষটিই মেষদলের দলপতি। অধিক মুনাফা পেয়ে ডেনডুনো খুবই খুশি। এরপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। পানোর্জ মেষটির শিং ধরে শক্তভাবে টেনে নৌকার এক প্রান্তে নিয়ে যায় এবং মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। দলপতি মেষকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য মেষগুলোও একের পর এক নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডেনডুনো এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। ঘটনার ...